ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা দাবিগুলো হলো:
১. খুনি চক্রের (পরিকল্পনাকারী ও আশ্রয়দাতাসহ) বিচার আগামী ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা।
২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা।
৩. ভারত খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকার করলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা।
৪. সিভিল ও মিলিটারি ইনটেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা।
এদিকে হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা, মা, স্ত্রী, শ্যালক এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারীরা রয়েছেন।
হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছে ঢাকার পুলিশ। তাকে সহায়তার অভিযোগে ভারতে দুজন গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও মেঘালয় পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এই দ্বিমুখী তথ্যের কারণে মামলার প্রধান আসামিকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর পর থেকেই বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক সংগঠন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।