মোঃ অলি উদ্দিন মিলন বিশেষ প্রতিনিধি
তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করা এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আপডেট থাকা সত্ত্বেও অনেক পেশাদার পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কার্ড পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কেবল ‘বিশেষ পরিচয়’ কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে অনেকে অনায়াসেই কার্ড ও স্টিকার বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
যোগ্যদের ভোগান্তি, অযোগ্যদের দাপট
মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক এবং সংবাদকর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক পর্যবেক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছি, সব কাগজপত্র আপডেট আছে। অথচ আমাদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু দেখছি যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বা যারা এই কাজের সাথে যুক্তই না, তারা কেবল অমুক-তমুক 'ভাইয়ের' পরিচয় দিয়ে কার্ড ও স্টিকার নিয়ে যাচ্ছে।"
অনুমোদনহীন স্টিকারে সয়লাব রাস্তা
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনেক ব্যক্তিগত গাড়িতেও 'নির্বাচন পর্যবেক্ষক' বা 'জরুরি নির্বাচন কাজে নিয়োজিত' স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রভাবশালীদের তদবিরে এসব স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নামমাত্র অনলাইন ও ভুঁইফোড় কিছু সংবাদপত্রের পরিচয় দিয়ে এসব সুযোগ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী স্বীকার করেন যে, "উপর মহলের চাপ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক সময় নিয়ম শিথিল করে কার্ড ইস্যু করতে হয়। ফলে যোগ্যদের তালিকায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।"
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের কার্ড না দিয়ে অপেশাদার ও দলীয় ব্যক্তিদের এসব সুযোগ দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জাল কার্ড ও স্টিকারধারী ব্যক্তিরা নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ এবং একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..