এম এ হাসান
লালমোহন (ভোলা)প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে ভোলা–৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনের ১১ দল সমর্থিত বিডিপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ঐক্য, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ জনপদ গড়ার লক্ষ্যে ৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও লালমোহন–তজুমদ্দিন অঞ্চলের মানুষ যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখে আসছে, তা বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে কৃষি ও মানবসম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক জনপদে পরিণত করাই তাঁর লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থানের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপত্তা, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
৯ দফা ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারসমূহ:
১. চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সুশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
২. নদীভাঙনমুক্ত নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
৩. উন্নত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা—ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণে ভূমিকা, ভোলা-চরফ্যাশন সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, উপজেলা সড়কসমূহ ২ লেনে উন্নীতকরণ এবং ভোলায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।
৪. নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে ১০০ শতাংশ সাক্ষরতা অর্জন, শিক্ষা ব্যয় হ্রাস এবং ভোলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
৫. সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন।
৬. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি, আইসিইউ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সমৃদ্ধ করা এবং দুর্গম চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ইউনিট চালু।
৭. মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসমুক্ত বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা।
৮. স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশে সহায়তা—উপজেলা প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়, সাংবাদিক নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৯. সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন বিকাশে উদ্যোগ—নদী ও উপকূলকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন।
অগ্রাধিকার ঘোষণা
ইশতেহারে তিনি পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ঘোষণা করেন।
না:
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, বেকারত্ব ও আধিপত্যবাদ।
হ্যাঁ:
ঐক্য, ইনসাফ, সততা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
বক্তব্যের শেষে মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম বলেন, “সুন্দর আগামীর পথে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক লালমোহন–তজুমদ্দিন গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই আমার অঙ্গীকার।”