শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার নীতি দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালের প্রধান আলোচনার বিষয়সমূহ:
একাডেমিক কার্যক্রম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সাক্ষাতকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), জীবনবিজ্ঞান, কৃষিপ্রযুক্তি এবং নার্সিংসহ সময়ের অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন কর্মমুখী বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গবেষণা ও জাতীয় স্বীকৃতি: দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি-বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম বহুগুণ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা বিদেশে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন ও ভালো করছেন, দেশে তাঁদের জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুগোপযোগী শিক্ষানীতি: পুরোনো ধ্যানধারণা ও গতানুগতিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার নীতি অতি দ্রুত প্রণয়ন করার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি: বৈঠকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার জোরালো আশ্বাস দেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, ট্রেজারার এবং রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।