×
সদ্য প্রাপ্ত:
ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর, খসড়া চুক্তি অনুমোদন সংরক্ষিত এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা মিরপুরের সংঘর্ষে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আগামী দুই মাসে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি: পেট্রোবাংলা
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৬
  • ২০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, ভাড়াসহ সার্বিক পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সম্প্রতি পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি।

ব্যয় বৃদ্ধি ও সংকটের পেছনের কারণসমূহ

  • মূল্যবৃদ্ধি ও পরিচালন খরচ: সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান জানান, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, দোকানভাড়া, পরিবহন ও শ্রমের মজুরিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মূল্য সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা: উৎপাদন ও পরিচালনা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও গ্রাহক হারানোর ভয়ে রেস্তোরাঁ মালিকরা চাইলেও সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় নিজেদের বহন করতে গিয়ে অনেক ব্যবসা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

  • প্রশাসনিক হয়রানি ও অভিযান: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীন অভিযান, ভ্যাট-সংক্রান্ত হয়রানি, অযৌক্তিক আর্থিক জরিমানা এবং খাদ্যের দাম নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যবসা পরিচালনা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ৯ দফা দাবি

খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে: ১. ওয়ান স্টপ সার্ভিস: রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমতি নেওয়ার জটিলতা দূর করে দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা চালু করা। ২. মূল্য নির্ধারণে হস্তক্ষেপ বন্ধ: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে রেস্তোরাঁয় দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা। ৩. কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার: ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ এবং সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ ও উৎসে কর ২ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। ৪. জ্বালানি সংকট সমাধান: এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনা। ৫. অভিযান ও জরিমানা বন্ধ: বিভিন্ন দপ্তরের নামে অহেতুক অভিযান, হয়রানি ও অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা অবিলম্বে বন্ধ করা। ৬. শিল্প ঘোষণা ও সদস্যপদ: রেস্তোরাঁ খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'শিল্প' হিসেবে ঘোষণা ও সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। ৭. গরুর মাংস আমদানি: বাজার স্থিতিশীল রাখতে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া। ৮. হয়রানি ও চাঁদাবাজি রোধ: ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো দলের ট্যাগিং দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা। ৯. প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মান: রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা প্রদান এবং খাতটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া।

সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত বিপুল কর্মসংস্থান ও নগর অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat