×
সদ্য প্রাপ্ত:
পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু আজ মাদারীপুরে ৮০০ কোটি টাকার সেতু, নির্মাণস্থান পরিদর্শনে এমপি জাহান্দার আলী একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ফুলগাজীতে প্রবাসীর জমিতে আগুন, শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক গোল, দুই অ্যাসিস্টে মেসির রাজকীয় বিদায় ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১১
  • ১৮ বার পঠিত
মোঃ অলি উদ্দিন, মিলন বিশেষ প্রতিনিধি 

রাজনীতির মাঠ যখন নানা কর্মসূচি, জুলাই আন্দোলনের রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং সরকারের মেগা উন্নয়নের বয়ানে গরম, তখন দেশের সাধারণ মানুষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়। বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম, কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এখন আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখতে চায় না সাধারণ জনগন। তাদের মূল চাওয়া নিরাপদে জীবনযাপন,পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান।

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম দিন দিন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ প্রতিটি জরুরি পণ্যের লাগামহীন দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সরকারি পরিসংখ্যান ও অর্থনীতিবিদদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টানা কয়েক মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে দিন চালাচ্ছে, আর নিম্নবিত্তদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বার্তা রাজনীতি কিংবা উন্নয়নের আলোচনার চেয়েও তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার।

মূল্যস্ফীতির পর সাধারণ মানুষের জীবনের বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব ব্যাপক রূপ নিয়েছে।চুরি-ছিনতাই, এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিদিন। কাজ শেষে রাতে নিরাপদে বাড়ি ফেরার যে মৌলিক নিরাপত্তা অধিকার, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন পথচারী ও চাকরিজীবীরা।

অন্যদিকে, বর্তমানে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই আন্দোলনের রূপরেখা ও তাদের কৌশলগত দাবি নিয়ে সোচ্চার। জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আন্দোলন ও জাতীয় রাজনীতি পুনর্গঠনের আলোচনায় ব্যস্ত, অন্যদিকে সরকার নজর দিচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর। বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি বা লংমার্চের ফলে জনজীবনে প্রভাব পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্লান্তি বাড়িয়ে তুলেছে।

​জনগণ এখন আর রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ দেখতে চায় না। তারা চায়:

সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।
​তরুণের বেকারত্ব দূর করতে জাতীয় সংসদ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ।
​আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি: কিশোর গ্যাং দমন করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বাজার করতে আসা রাজীব আহমেদ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, কে ক্ষমতায় এলো আর কে লংমার্চ করল, তা দিয়ে আমাদের চাল-ডালের হিসাব মেলে না। সকালে বাজারে গেলে পকেট খালি হয়ে যায়, আর রাতে বাড়ি ফেরার সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। আমরা চাই সংসদে আমজনতার এই বাস্তব সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হোক।"
​সাধারণ মানুষের মতামত স্পষ্ট উন্নয়নের সুফল কিংবা রাজনৈতিক সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা মেটানো। উন্নয়ন ও রাজনীতির আলোচনার ঊর্ধ্বে উঠে নিত্যপণ্যের সহনীয় মূল্য, কিশোর গ্যাং দমন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হোক এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর মূল অগ্রাধিকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat