বিশেষ সংবাদদাতা:
মুন্সীগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শনিষ্ঠ নেতা: শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সৈনিক।”
সাংগঠনিক অবদান: তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেরণা: স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে মরহুম আব্দুল হাইয়ের ভূমিকা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাঁর অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণকারী এই বর্ষীয়ান নেতা ১৯৭৩ সালে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধি জীবন শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন) এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে সরকারের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
জানাজা ও দাফন: আজ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এবং পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।