×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৮
  • ১৬ বার পঠিত
মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁর বদলগাছীতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আওতায় নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত তথ্য না পাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গুদামের কর্মকর্তা ও পরিদর্শকের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতেই মূল তথ্য গোপন করে অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও দূরবর্তী জেলার অপ্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, বদলগাছী খাদ্য গুদামে ১২২৯ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের কৃষকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা (নাম, ঠিকানা ও ইউনিয়নসহ), প্রতি টন ধান ক্র্যাশিংয়ে সরকারি নির্ধারিত খরচ এবং মিলওয়ারি প্রতি টন ধানের পরিবহন খরচের সরকারি বরাদ্দের তথ্য জানতে চেয়ে গত ৩০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেন স্থানীয় সাংবাদিক এনামুল কবির এনাম।

​নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ফি জমা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলে, সাংবাদিক এনাম ২০ সেপ্টেম্বর বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় সরকারি ফি জমা দিয়ে চালানের কপি দপ্তরে জমা দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গত ১৪ অক্টোবর যে তথ্য সরবরাহ করা হয়, তাতে মূল চাহিদার বড় অংশই অনুপস্থিত।

​ভুক্তভোগী সাংবাদিক এনামুল কবির এনাম বলেন, "আমি বদলগাছী উপজেলার ধান সংগ্রহের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, ধান ক্র্যাশিং ও বিভিন্ন মিলে ধান পরিবহনের সরকারি খরচের সঠিক হিসেব চেয়েছিলাম। কিন্তু তথ্য গোপন ও গুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মো. আতিকুর রহমানকে রক্ষা করতে আমাকে সম্পূর্ণ অপূর্ণাঙ্গ ও ভুয়া তথ্য দেওয়া হয়েছে। কৃষকের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাবার নাম, গ্রামের নাম বা ইউনিয়নের নাম নেই—কেবল কিছু সাধারণ নাম বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে অনিয়মগুলো ধরা না পড়ে।"

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, "যেখানে আমি শুধু বদলগাছী উপজেলার নির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে সরকারি ফি জমা দিয়েছি, সেখানে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, পাবনা ও জয়পুরহাটের মতো দূরবর্তী এলাকার অসংলগ্ন ও উদ্ভট তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এটি কেবল তথ্য অধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো নয়, বরং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি ঢাকবার নগ্ন অপচেষ্টা। আমি এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।"

​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, তথ্যের ফি জমা নেওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অসম্পূর্ণ ও ভিন্ন জেলার তথ্য দেওয়া তথ্য অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যকে চরমভাবে ব্যাহত করে এবং খাদ্য গুদামের অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার ফরহাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

​অন্যদিকে, বিষয়টিতে পদক্ষেপের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে গত ১৫ অক্টোবর সাংবাদিকরা সরাসরি ইউএনও'র কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তথ্য প্রদানের  আশ্বাস দেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

​উপজেলার সচেতন মহল মনে করে, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরাতে অবিলম্বে এই ভুয়া তথ্য সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সঠিক তথ্য দ্রুত সরবরাহ করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat