×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ২২ বার পঠিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ ঝাড়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন লাভ করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ আইনি শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে সশরীরে আদালতে হাজির করার পূর্বনির্ধারিত সময় ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে বিচারকের সম্মুখে আনা হয়। সাথী আক্তারের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেন অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করার আদেশ দেন। এবং ওইদিনই তাঁকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ‘সাথী মেকওভার’ নামক ফেসবুক প্রোফাইল থেকে টানা দুটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ধারণকালে তিনি নিজের বিউটি পার্লারের বৈদ্যুতিক ক্যাবল বা তার চুরির ঘটনায় মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দেন। ভিডিওটির একপর্যায়ে তাঁকে আফসোস করে বলতে দেখা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ফেসবুক লাইভে ক্ষুব্ধ সাথী দাবি করেন, তিনি অমানুষিক কষ্ট ও পরিশ্রমে তাঁর ব্যবসা সচল রেখেছেন, অথচ নিত্যদিনের চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে রাতে সামান্য নিরাপদে ঘুমোতেও পারছেন না। কেবল সাধারণ ব্যবসায়ীরাই নন, 'সামগ্রিকভাবে দেশের কোনো সাধারণ মানুষই এখন শান্তিতে ও নিরাপদে নেই' বলেও লাইভে উল্লেখ করেন তিনি।

লাইভ ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বর্তমানে আমাদের কারোরই কিছু করার উপায় নেই, ব্যবসায়ীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সাধারণ কোনো মানুষই নিরাপদে বসবাস করতে পারছে না। এই ২৬ সালকে উদ্দেশ্য করেই বলছি, ২৬ সালে এসেই এত শত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।’

প্রচারিত অপর একটি লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজের বুড়ো আঙুলে একটি স্যান্ডেল বা জুতো দিয়ে আঘাত বা পিটুনি দিচ্ছেন।

সে সময় তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘জুতা দিয়া কপালে মারি। কারণটা হলো, এই ২৬ সালে আইসা আমাদের যে কষ্ট ও ভুক্তভোগী হইতে হইছে তা মুখে বলার মতো না। ২৬ সালের নির্বাচনে সরকাররে আমি এই হাত দিয়া ভোট দিছিলাম না, এই আঙ্গুলে বাইড়াই, এই যে ঠিক এইরকম।’

তাঁর এই মন্তব্যসম্বলিত ভিডিও দুটি মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে ফেলে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও জানমালের শঙ্কা দেখা দিলে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী সংলগ্ন খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর কন্যা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat