×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-৩১
  • ১৮ বার পঠিত
নরিন জাহান, জেলা প্রতিনিধি,  নারায়ণগঞ্জ :

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলার ২২ হাজার ২৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০ হাজার ১৮২ জন। অর্থাৎ ১২ হাজার ৫৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১৮৫ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা ফলাফলের বিবরণীতে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিল হাজারো শিক্ষার্থী, কিন্তু ফলাফলে ফুটে উঠেছে হতাশার চিত্র। নারায়ণগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র সোনারগাঁ ও বন্দরে।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে সোনারগাঁ ও বন্দর। সোনারগাঁয়ে ২ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৭৫২ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন।

অন্যদিকে বন্দরে ২ হাজার ৭১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮৮১ জন। পাসের হার ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২ জন।

আড়াইহাজারে ১ হাজার ৯৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮৫৫ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ জন।

রূপগঞ্জে ২ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ জন।

তবে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর। এখানে ১২ হাজার ৫৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ হাজার ৬৪৩ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৬ জন।

আলিমে সাফল্যের চিত্র ভিন্ন

এইচএসসির হতাশাজনক ফলাফলের বিপরীতে আলিম পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল দেখা গেছে। জেলায় ৯৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭২০ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৫ জন।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে সোনারগাঁয়ে সর্বোচ্চ ৯২ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বন্দরে পাসের হার ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ, আড়াইহাজারে ৭০ দশমিক ৪০ শতাংশ, রূপগঞ্জে ৭৫ শতাংশ এবং নারায়ণগঞ্জ সদরে ৭৫ দশমিক ২১ শতাংশ।

প্রশ্ন এখন শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে

এই ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা কিংবা ব্যক্তিগত প্রস্তুতির ঘাটতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সোনারগাঁ ও বন্দরের মতো উপজেলায় পাসের হার ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে আসা শিক্ষা ব্যবস্থার মান, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

যে বয়সে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই সময়ে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? দুর্বল ফলাফলের দায় কি শুধু শিক্ষার্থীদের, নাকি শিক্ষা ব্যবস্থার সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন?

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ একটি জেলার শিক্ষার মান কেবল জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং কতজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য করে গড়ে তোলা যাচ্ছে, তা দিয়েই মূল্যায়ন করা উচিত।

এখন প্রয়োজন শুধু ফলাফল প্রকাশ নয়, বরং ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat