নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আন্দোলনের বাহানায় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার যেকোনো অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি সাফ জানান, রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়; সরকার বদলের একমাত্র স্বীকৃত ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম হলো নির্বাচন। সরকারের সার্বিক পারফরম্যান্সে জনগণ সন্তুষ্ট না হলে আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই নতুন সরকার নির্বাচন করবে।
আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় অবস্থিত আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চিফ হুইপ স্পষ্ট করে বলেন, "আন্দোলন-সংগ্রাম করে কি কখনো সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের একমাত্র সাংবিধানিক পথ হলো নির্বাচন। যাঁরা আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁতারা করছেন, তাঁদের উপলব্ধি করতে হবে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণই সবার আগে।"
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, "আমরা দেশে সর্বদা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বহাল রাখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি ভালো কাজ করে, তবে দেশের সাধারণ জনগণ তার সুফল ভোগ করবে। আর সরকার যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি চিরস্থায়ী গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।"
জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের চলমান কর্মসূচি ও আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে নিজেদের ভেতর কলহ ও সংঘাত বাড়ালে সেই সুযোগ তৃতীয় কোনো পক্ষ লুফে নেবে।
এই প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে চিফ হুইপ বলেন, "আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ি, তবে শেষ পর্যন্ত কার পথ প্রশস্ত হবে? যারা আমাদের বিভাজিত দেখতে চায়, তাদেরই লাভ হবে। দুই ভাই যখন आपसে ঝগড়া করে, তখন পাশের ঘরের লোক মধ্যস্থতা করতে আসে ঠিকই, কিন্তু আড়ালে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি কুক্ষিগত করার চক্রান্ত করে।"
দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "এই দেশ যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কী কৈফিয়ত দেব? স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা বহুবার আত্মকলহে সময় নষ্ট করেছি। এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।"
চলমান জ্বালানি সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব সামলাতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একশ্রেণীর চক্রান্তকারী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বর্তমান সরকার তথা দেশের বিশ কোটি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। এই ধরণের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সবসময় সজাগ ও সোচ্চার থাকতে হবে।"
উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, দেশের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনন্য। দক্ষ ও প্রাকৌশলিক জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এর পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের সার্বিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি জোর তাগিদ দেন।
প্রকৌশলীদের আশ্বস্ত করে চিফ হুইপ পরিশেষে বলেন, "আপনারা হলেন সোনার বাংলা গড়ার প্রকৃত কারিগর। আপনাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে দেশগঠনের কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের যেকোনো যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণে আমি ব্যক্তিপর্যায়ে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করব।"
উক্ত মহাসম্মেলনে আইডিইবির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ এবং বিভিন্ন পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।