×
সদ্য প্রাপ্ত:
আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৮২ জন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০২
  • ৩৪ বার পঠিত

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার অপরাধে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামের এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ ও পৈশাচিক হওয়ায় আদালত এই সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকায়। গত ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনে পঞ্চগড় গমনের সময় দিনাজপুর রেলস্টেশনে ওই তরুণীর সঙ্গে রিফাতের সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটোয়ারীর কিসমত রেলগেট এলাকায় নিয়ে আসেন এবং একটি সুপারি বাগানে নিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান। ধর্ষণের বিষয়টি যেন কোনোভাবেই ফাঁস হয়ে না যায়, সেজন্য পরবর্তীতে একটি ভারী ইট ও ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে তরুণীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের সমস্ত চিহ্ন ও অপরাধ ঢাকতে মরদেহটি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ভুক্তভোগীর মরদেহটি পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

এর ধারাবাহিকতায়, ১৪ জানুয়ারি সকালে আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট সংলগ্ন একটি বিদ্যালয়ের পেছনের রেললাইন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই তরুণীর অবয়বহীন ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ সকালে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় রিফাতকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কিছু সন্দেহজনক ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটকের পর আসামির মোবাইল ফোন থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে রিফাত পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে একজন ডিফেন্স ল ইয়ার নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়নের পরই আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat