সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
দৈনিক চেতনায় বাংলাদেশ পত্রিকা ও DCB Television বর্তমানে Channel 36–এর চেয়ারম্যান কেএম মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ। বিজ্ঞাপন প্রকাশ, কার্ড নবায়ন, ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের নামে সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর তা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।
যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মৃত খন্দকার শফিউদ্দিন এর ৭ সন্তানের মধ্য সবার ছোট এই মোজাফফর।
অভিযোগে জানা যায়, কেএম মোজাফফর বিভিন্ন সময় বিজ্ঞাপন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তা প্রকাশ না করেই সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে সাবেক সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ১লা ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভর্তি বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা জন্য বিকাশের মাধ্যমে ১৭০০ টাকা পরিশোধ করেও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপা হয়নি। ছাপা না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভুল করে ছাপা হয়নি বলে জানান এবং পরবর্তীতে ছাপিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর করে নাই পত্রিকার চেয়ারম্যান মোজাফফার। এবং বিগত ১১ মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ফেরত দেওয়ার কথা কলেও এখনো পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করেনি এই প্রতারক মোজাফফার।
আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, মাইক্রোফোন দেওয়ার নামে দেড় থেকে দুই বছর পার হলেও তারা এখনো সেই মাইক্রোফোন পাননি। এছাড়া কর্পোরেট সিমের জন্য ৩০০ টাকা ও কলার টিউনের নামে ২০০ টাকা পরিশোধ করেও সিম পাননি তারা।
এছাড়াও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে “কার্ড নবায়ন ফি হিসেবে দফায় দফায় টাকা দিয়েও কার্ড পাননি অনেকে। বহু প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিশোধে করছেন নানা তালবাহানা।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের নামে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ৩ হাজার, ৫ হাজার, এমনকি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবির অভিযোগও আছে অনেকের।
এ ছাড়া, পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিসের ঠিকানা (Head Office: 12/7, Nagrimission 5t. Nicholas Church Nagari Road Nagari) এবং Corporate Office: Tarafdar L. Enterprise Station Bazar Nawapara Abhaynagar Jessore. (09611344587) কার্ডে উল্লেখ থাকলেও সেখানে কোন অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তারা হেড অফিস বলে দাবি করে (৫০/নয়াপল্টন ডিআইটি এক্সটেনশন রোড, ঢাকা ১০০০) এবং (যশোর অফিস: ঢাকা রোড, মনিহার) সে-সকল অফিসের নেই কোন সঠিক ঠিকানা। ঠিকানা অনুযায়ী অনেক খোজাখুজি করলেও সেখানেও ওই নামে কোন অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঠিকানা ভুয়া হওয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক প্রতিনিধি জানান, আমরা সবাই মনে করেছিলাম একটি নিবন্ধিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝতে পারছি আমাদের বিশ্বাসের অপব্যবহার করা হয়েছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠান বুঝতে পেরে অনেকই ইতিমধ্য প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলেও গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কেএম মোজাফফর এর মুটোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি তাকে।