ফুট প্যাট্রোলে দুই কিলোমিটার এলাকায় বাঘ ও হরিণের উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও শিকারির কোনো ফাঁদের অস্তিত্ব মেলেনি; নিয়মিত টহলকে ইতিবাচক অগ্রগতি বলছেন ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী।
এম মোহাম্মদ ওমর, শরণখোলা বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের চরাপুটিয়ার কেওড়াবনে নিয়মিত টহল অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা—টানা দুই ঘণ্টা ফুট প্যাট্রোল পরিচালনা করেছে বনবিভাগের একটি দল। টিয়ারচরের উত্তরের ৮ নম্বর কম্পার্টমেন্টের সর্বদক্ষিণ অংশজুড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় এই টহল চলে। ছয়জন সহকর্মীকে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ অভিযানে অংশ নেন।
টহলকালে দলটি ছোট ও বড়—উভয় ধরনের বাঘের তাজা পায়ের ছাপ শনাক্ত করে। একইসঙ্গে দেখা গেছে প্রচুর হরিণের নতুন পদচিহ্ন, যা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও সক্রিয়তার স্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছে বনবিভাগ।
তবে আশার খবর—টহল এলাকায় হরিণ শিকারের কোনো ফাঁদ পাওয়া যায়নি। নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের ফলে শিকারিরা এ ধরনের ফাঁদ পেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,
“সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমাদের টহল এখন আরও শক্তিশালী এবং সংগঠিত। আজকের টহলে পাওয়া বাঘের তাজা পায়ের ছাপ থেকে বোঝা যায়—এলাকায় বাঘের সক্রিয়তা বজায় আছে। সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, কোনো শিকারির ফাঁদ পাওয়া যায়নি। এ ধরনের ধারাবাহিক টহল সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো হবে। স্থানীয় ও বনসংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা সচেতন থাকতে অনুরোধ করছি।”
বনবিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, সুন্দরবনে শিকার প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, মাঠ পর্যায়ের টহল বৃদ্ধি ও স্থানীয়দের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। আজকের টহলে শিকারির ফাঁদ না পাওয়া সেটিরই একটি প্রতিফলন।
এ জাতীয় আরো খবর..