দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র ও সম্ভাব্য স্থানে অন্তত ৬টি নতুন কূপ খনন করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বর্তমান অস্থিতিশীলতার চাপ কমাতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশীয় খনিগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ায় নতুন কূপ অনুসন্ধান ও খননের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের নির্দেশনায় বাপেক্স (BAPEX) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ৬টি কূপ খনন করা হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নতুন গ্যাস যুক্ত হবে, যা শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে নিজস্ব গ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্য উপদেষ্টার এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, সরকার কেবল স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থেকে জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত ও অনুসন্ধানমূলক কাজের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি নতুন কূপ খননের এই সরকারি উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক শিল্পায়নের গতিও অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।