×
সদ্য প্রাপ্ত:
জ্বালানির দাম বাড়ায় ক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের ও প্রথম স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার লঘুচাপের প্রভাবে দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা “মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির তাণ্ডবে কুপোকাত রাজধানী” ইউরোপে রুশ ‘হাইব্রিড হামলার’ হুমকি বেড়েছে: ম্যাক্রোঁ বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য: ড. তিতুমীর রাজধানীতে নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার,২০০'র বেশি চেকপোস্ট: ডিএমপি সৌদির রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ ৪৯৫ উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২৩
  • ৩১ বার পঠিত
◾বিশেষ প্রতিবেদন▪️ প্রথম পর্ব 
প্রণয় দাশ গুপ্ত শিমুল | চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যস্ততম সড়ক থেকে অলিগলি— সর্বত্র এখন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার রাজত্ব। যে সড়কে বাস, সিএনজি চলতে হিমশিম খায়, সেখানেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ যান। ফলে প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে দুর্ঘটনা, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রী, পথচারী। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন এই ব্যাটারি রিকশার কাছে জিম্মি।

সড়কে মৃত্যুফাঁদ
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই রিকশাগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন, নেই ব্রেকের ভারসাম্য। চালকদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক, মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। বেপরোয়া গতিতে চালানো, হঠাৎ ইউ-টার্ন এবং উল্টো পথে চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কেউ কিছু বলতে গেলে তারা তেড়ে আসে মারতে। সব সময় তারা থাকে নেশাগ্রস্ত, শোনে না কারো কথা। সম্প্রতি নগরীর জিইসি ও আগ্রাবাদে ট্রাফিক পুলিশের সাথে ব্যাটারি রিকশা চালকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে।

বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ আঘাত
এই রিকশা শুধু সড়কের জন্যই নয়, দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। একটি ব্যাটারি রিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি অবৈধ ব্যাটারি রিকশা চলছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে এই অবৈধ বাহনগুলো। যা মূলত অবৈধ সংযোগ দিয়ে চুরি করা বিদ্যুৎ। বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের সময় এটি দেশের সম্পদের চরম অপচয়।

হটস্পট কোথায়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অবৈধ ব্যবসার হটস্পট হলো পাহাড়তলী টাংকির পাহাড় বস্তি, কাতালগঞ্জ বস্তি, বাকলিয়া, নতুন ব্রিজ, মাদারবাড়ী, ইপিজেড, বন্দর এলাকা, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও মুরাদপুর। এসব এলাকার ভেতরে বিভিন্ন গ্যারেজে একসাথে ৫০ থেকে ১০০টি রিকশা চার্জ দেওয়া হয়। রাতভর চলে এই চার্জ বাণিজ্য।

কে চালায় এই ব্যবসা?
অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসার সাথে জড়িত বেশিরভাগই মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত। একটি রিকশা ভাড়া দেওয়া হয় দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকায়। আর যারা এই ব্যবসার মূল মালিক, তারা একেকজন ২০ থেকে ৫০টি রিকশার মালিক। মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং দিয়ে তারা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার থেকে ব্যাটারি রিকশা না চালানোর নির্দেশনা থাকলেও ক্ষমতার দাপটে তারা সরকারকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ, কিছু অসাধু ট্রাফিক ও থানা পুলিশ মাসোহারা নিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতাতা করছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভিযানের পরদিনই আবার সড়কে ফিরে আসে একই চিত্র।

নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ যান চলছে? সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, বিদ্যুৎ চুরি রোধে এবং প্রাণহানি ঠেকাতে এই ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী অভিযান এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat