দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থায়ী বন্যা সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। এর আগে তিনি ওই এলাকায় বৃক্ষরোপণ এবং নদী খনন কার্যক্রমেরও শুভ সূচনা করেন।
প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা ও লক্ষ্য:
অনুমোদন ও ব্যয়: গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাঁধ পুনর্বাসন ও নদীতীর সংরক্ষণ: এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার নদীবাঁধ পুনর্বাসন এবং ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে।
খনন ও জলাশয় উন্নয়ন: বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমস্যা দূর করতে প্রায় ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখনন করা হবে।
সেচ ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো: কৃষি ও জনপদের সুরক্ষায় ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট (জলকপাট) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং এর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নদীতীরবর্তী জনপদের সুরক্ষা স্থায়ীভাবে জোরদার হবে।