×
সদ্য প্রাপ্ত:
দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর, খসড়া চুক্তি অনুমোদন সংরক্ষিত এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা মিরপুরের সংঘর্ষে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আগামী দুই মাসে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি: পেট্রোবাংলা মিরপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে আগুন নাইজেরিয়ায় ২৫ লাখ আফিম ট্যাবলেট জব্দ, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে পাচারের দাবি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৪
  • ১১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত পরিদর্শনের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করে ৩ হাজার ৯৩৮টি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬২২টি ভবন রয়েছে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায়।

পরিদর্শন ও ঝুঁকি নির্ধারণের মানদণ্ড:

  • পরীক্ষিত বিষয়সমূহ: পরিদর্শনের সময় ভবনের জরুরি বহির্গমন পথ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও ব্যবহার উপযোগী সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবল এবং ডেডিকেটেড ফায়ার অফিসারের উপস্থিতি যাচাই করা হয়।

  • সিঁড়ি ও পথ অবরুদ্ধকরণ: সিড়িতে মালামাল রেখে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করাকে সরাসরি ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া রাজউক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হলে এবং ফায়ার লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা হলে তা ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

  • ভূমিকম্প ও দুর্যোগ সহনশীলতা: সাম্প্রতিক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দুর্যোগ-সহনশীলতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভূমিকম্পের পর অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ফোরণ এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় সমন্বিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

খাতভিত্তিক পরিদর্শন ও ঝুঁকির পরিসংখ্যান (২০২৫):

  • সরকার ও আবাসিক ভবন: সরকারি ৬৫২টি ভবনের মধ্যে ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ; অন্যদিকে আবাসিক ৪৭৩টি ভবনের মধ্যে ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

  • শিল্প ও পোশাক কারখানা: ১ হাজার ৫৩৩টি পোশাকশিল্প কারখানার মধ্যে ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং অন্যান্য ৭২০টি কারখানার মধ্যে ২৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া গেছে।

  • হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র: ১ হাজার ৫৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৮০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট: ৭৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১ হাজার ১৭১টি শপিংমল ও মার্কেটের মধ্যে ৩৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

  • অন্যান্য স্থাপনা: ১ হাজার ৭১টি রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ; ৯১টি কেমিক্যাল গোডাউনের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০১টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা ও নিয়মকানুন না মেনে নির্মিত হওয়ায় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat