×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১০
  • ৪৬ বার পঠিত
মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ মোট সাতটি মোবাইল ফোন এবং লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত নওগাঁ জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, অনলাইন জুয়ায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারিয়ে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ এবং পরে ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগির পরিকল্পনা করেন ব্যাংকের তিন কর্মী। তাঁদের পরিকল্পনাতেই এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে এজেন্টের মালিক ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর বাজারের অফিসে ফিরছিলেন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রানীনগর উপজেলার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় লোহার রড দিয়ে নাজমুলকে মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার প্রাথমিক সূত্র উদ্‌ঘাটন করে পুলিশ। ঘটনার রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালায় ডিবির বিশেষ দল। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আরও তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—স্বপন, হাসান আলী, রাব্বি আলী, অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) এবং ঋণ কর্মকর্তা সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২)। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় ও গ্রেপ্তারের স্থান সম্পর্কে পুলিশি তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও তথ্য যুক্ত করা যেতে পারে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংকের কর্মী রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। পরে তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে জুয়ায় ব্যবহার করে হারিয়ে ফেলেন। এ পরিস্থিতিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। এ জন্য স্বপন, হাসানসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা চলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে তিনি মুঠোফোনে ছিনতাইকারীদের কাছে তাঁদের অবস্থান জানাতে থাকেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে স্বপন, হাসানসহ অন্যরা তাঁদের পথরোধ করে নাজমুলকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল ছিলেন প্রকৃত ভুক্তভোগী; তবে অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তাঁরা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি আইফোনসহ সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat