×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ৩৩ বার পঠিত
এমদাদুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়ার অভিযোগ তুলে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন নামে এক মহিলা । তিনি জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জামালপুর শহরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার একটি হাসপাতাল এবং ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। 

জামালপুর সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন এম. এ. রশীদ হাসপাতালের পরিচালক ও জেনারেল সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং অবস অ্যান্ড গাইনির কনসালটেন্ট ডা. সাবরিনা বরকত। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলার নম্বর ও আদালতের পরবর্তী আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষের দাবি, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০ জানুয়ারি তাঁকে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়সংলগ্ন সংক্রমণ এবং ডিম্বাশয়ে সিস্টের কথা জানান। পরে ২৯ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণের বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি এবং এ ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট সম্মতি নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও বাস্তবে সম্পাদিত অস্ত্রোপচারের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর জ্বর, বমি, তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পেটে স্থাপিত ড্রেন টিউব দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত তরলও বের হতে থাকে। এসব উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলা করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

পরবর্তী সময়ে ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হলে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর Exploratory Laparotomy ও Peritoneal Toileting অস্ত্রোপচার করা হয়। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পেটের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা ও দূষিত তরল পরিষ্কারের জন্য এ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছিল।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হয়। এটি বৃহদান্ত্রের অংশ ও যোনিপথের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হওয়ার একটি জটিলতা।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ তাঁর Exploratory Laparotomy ও Diversion Loop Ileostomy করা হয়। পরে ২০ জুন Exploratory Laparotomy ও Ileostomy Reversal অস্ত্রোপচার করা হয়। মামলার আরজিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী অস্ত্রোপচারে Rectosigmoid Junction ও Vaginal Vault-এর মধ্যে ফিস্টুলাসংক্রান্ত সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় বা পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অন্ত্রের আঘাত, সংক্রমণ, লিকেজ কিংবা অন্য জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে কোন কোন অঙ্গ কতটুকু অপসারণ করা হয়েছিল, কী ধরনের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথিতে কী উল্লেখ রয়েছে, সেসব বিষয়ও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছে ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়।

বাদীপক্ষের আবেদন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। এ ব্যপারে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে  সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আজিজুল হক বলেন, আমি আপনাদের থেকে অবগত হলাম। এটা আদালতের বিষয় আদালতের রায়ের উপর নির্ভরশীল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat