×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-০৪
  • ১৪৯ বার পঠিত

জাহিদ হাসান টিপু, শরীয়তপুর :


শরীয়তপুর জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা ভেদরগঞ্জ। দুইটি থানা নিয়ে গঠিত এই উপজেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৩৫ জন। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল ৫০ শয্যার ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

তবে গত পাঁচ মাস ধরে অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। ফলে নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি জরুরি পরিবহন সেবা থেকে। হাসপাতাল চত্বরে পড়ে থাকা একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি এখন ধুলাবালিতে একাকার। চালক না থাকায় সেটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীদের স্বজনদের বাধ্য হয়ে দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের, যারা ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। সরকারি ভাড়ার নির্ধারিত হার ভেদরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪৫০০ টাকা হলেও বর্তমানে বেসরকারি সিন্ডিকেট ৮-৯ হাজার টাকাপর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে, যা মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য চরম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক সেবার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিন্তু গত ২৩ জুন হঠাৎ করে চালককে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর থেকে চালকবিহীন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি অচল হয়ে পড়ে।

প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হায়ার সেন্টারে রেফার করা হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) উপজেলার চর পায়াতলী এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫জন মারাত্মক আহত হন। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হলে, একজন আহতের ভাই জানতে পারেন—অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। বাধ্য হয়ে জেলা সদর থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায় আহত রোমান মাল (২২)

নিহতের বাবা মিন্টু মাল বলেন,

“আমার ছেলে সহ পাঁচজন আহত হয়েছিল। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন । ডাক্তার ঢাকায় পাঠানোর কথা বলার পর জানতে পারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই। পরে ৯ হাজার টাকা দিয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি, কিন্তু সদর থেকে গাড়ি আসতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। রক্তক্ষরণে আমার ছেলে মারা যায়। যদি চালক থাকতো, তাহলে হয়তো ছেলেটা বাঁচতো।”

৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে হাসপাতালের সামনে কথা হয় আরেক রোগীর স্বজন কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“হাসপাতালের গেটে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চালক নেই! গতকাল মাঝরাতে মা অসুস্থ হলে চোখের সামনেই গাড়ি থাকলেও নিতে পারিনি। রিকশায় করে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। এমন কষ্ট যেন কারো না হয়।”

এছাড়া সখিপুরের মারুফা বেগম বলেন,

“আমার বাবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে হাসপাতালে আনতে গিয়ে শুনি অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। তখন মনে হচ্ছিল সরকারি সেবা শুধু বোর্ডে লেখা নাম, বাস্তবে কিছুই নেই।”

দক্ষিণ তারাবুনিয়া এলাকার সোহেল মাদবর বলেন,

“প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই দুর্ভোগ চলছে। আমি গর্ভবতী স্ত্রীকে ঢাকায় নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু চালক না থাকায় ৮ হাজার টাকা দিয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়েছে। সরকারি ভাড়া ৪৫০০, কিন্তু এখন দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। এটা গরিব মানুষের জন্য অসম্ভব।”

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন,

“আমাদের এখানে পাঁচ মাস ধরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি চলতি মাসেই সমস্যার সমাধান হবে।”

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু আব্দুল্লাহ খান জানান,

“জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন,

“বিষয়টি আমি জানি। বর্তমানে নতুন কোনো চালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া না থাকলেও ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে একজন চালকের পোস্টিং দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে ।”


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat