×
সদ্য প্রাপ্ত:
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, চব্বিশ ছিল রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-১২
  • ১৫৭ বার পঠিত
মামুন মিঞা, ফরিদপুর :

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার দীপা রানী নন্দী প্রায় দুই বছর ধরে সপ্তাহে মাত্র (১)দিন অফিসে উপস্থিত হয়ে সমস্ত দাপ্তরিক কার্যাবলী সম্পন্ন করে আসছেন । সম্প্রতি তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে হাজির হয়ে সারা সপ্তাহের অফিসিয়াল পেন্ডিং কাজ সম্পন্ন করেন। এতে উপজেলার কৃষক, শ্রমিক,মজুর ও সাধারন পরিবারগুলো সপ্তাহে মাত্র একদিন জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপে পড়ছেন। সপ্তাহে জমাকৃত দলিল একদিন সম্পাদনের ভিড়ে  সাধারনরা নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত মোটা অংক ব্যয় করে,এবং করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন জানান,“শুধু সাব-রেজিষ্ট্রার কেনো। সপ্তাহে একদিন অফিস করার বিধান কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর নাই। কাজ থাকুক বা না থাকুন, সপ্তাহে ৫দিন রুটিনমত অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, সাব-রেজিষ্ট্রার যাতে নিয়মিত অফিস করেন সে ব্যাপারে আমি তার সাথে আলোচনা করবো”।  আর উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার দীপা রানী নন্দীকে মুঠোফোনে বলেন, “ আমি ডিআরও স্যারকে অবগত করে অফিসিয়াল কাজ চালাচ্ছি এবং বর্তমানে আমার শারীরিক কারনে অফিসে কম যাওয়া হয়”।

সোমবার উক্ত অফিস ঘুরে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অত্র উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ে সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল সম্পাদনের প্রথা চালু রাখা হয়েছে। এতে জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের বাড়ছে ভোগান্তি। সেই সাথে অনিয়ম ও দুর্নীতির কবলে পড়ে গ্রাহকরা মোট অংকের অর্থদন্ডি দিয়ে চলেছেন। এছাড়া সপ্তাহে জমাকৃত দলিলগুলো একদিনে ভিড়ের  মধ্যে সম্পাদন করতে গিয়ে ভুল ত্রুটির শঙ্কা বাড়ছে। উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত অফিসের সব কর্মচারীই সপ্তাহে ৫দিন অফিস করে থাকেন। শুধু সাব-রেজিষ্ট্রার ঢাকা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার আসেন। তাই সপ্তাহের এক দিনই দলিল সম্পাদনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

উক্ত সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের পেশকার গৌতম সাহা বলেন,“অত্র ছোট্ট উপজেলায় সপ্তাহে মাত্র ৩০ খানা দলিল সম্পাদন হয়। তাই উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার সপ্তাতে মাত্র একদিন অফিস করেন। এছাড়া সাব-রেজিষ্ট্রারের জেলাতেও কাজ থাকে বলে তাকে অফিসের বাইরে থাকতে হয়। তিনি আরও জানান, আপনারা সপ্তাহে ২০০ দলিল দেন, সাব-রেজিষ্ট্রার প্রতিদিন অফিস করবেন”।

একই দিন ভুক্তভোগী এক জমি ক্রেতা হাসেম মৃধা (৬০) জানান,“ ৫ শতাংশ জমি কিনতে গিয়ে মহুরীদের কাছে সমস্ত কাগজপত্র ও টাকা পয়সা দিয়ে সাতদিন বসে থাকতে হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে আসবেন এবং বিকাল ৪ টার মধ্যে জমাকৃত সমস্ত দলিল সম্পাদন করবেন। তাই মহুরিরা ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে দলিল লেখালিখি করেন। ফলে ভুলত্রুটির শঙ্কা থাকে বেশি এবং স্যার চলে গেলে আর দলিল হবে না এই অজুহাতে আমাদের মত মূর্খদের কাছ থেকে মোটা অংশ হাতিয়ে নেওয়া হয়”।আরো এক ভুক্তভোগী শিক্ষক মনির হোসেন জানান,“ একদিনে তাড়াহুড়ো করে দলিল সম্পাদনের কারনে আমার প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ মহল ২০২২ সালে একটি ভূয়া জন্ম সনদ তৈরী করে এবং ভারতের এক নাগরিককে দাতা সাজিয়ে আমার বসতভিটের জমির দলিল বানিয়েছে। ফলে উক্ত দলিল গ্রহিতার সাথে আমার এক বছর ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলমান। তিনি আরও জানান, সেই সময়ের সাব-রেজিষ্ট্রার যদি সময় নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করতো তাহলে আজ আমি এতো বড় বিপদে পড়তাম না। সপ্তাহের একদিনে সামান্য অফিস টাইমে সাব-রেজিষ্ট্রার তাড়াহুড়ো করে দলিল সম্পাদন করে  আমার সর্বনাশ করেছে বলেও তিনি হতাশা ব্যাক্ত করেন”
এ বিষয় জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম এর সাথে  মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করতে করলে,তিনি ফোন না তোলায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat