মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফ (কক্সবাজার)
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জের, সীমান্তে গুলিবিদ্ধ স্কুল ছাত্রী হুজাইফার মৃত্যু
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে আহত ১০ বছরের শিশু ও স্কুল ছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই। দীর্ঘ ২৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আজ শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত হুজাইফা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে হুজাইফা তার দাদার সাথে বাড়ির কাছের দোকানে নাস্তা কিনতে যায়। ওই সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির ছোড়া একটি বুলেট সীমান্ত পেরিয়ে হুজাইফার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুটি।
আহত হুজাইফাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক এবং কক্সবাজার সদর হাসাপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও গভীর ক্ষত ও বুলেটের আঘাতের কারণে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সে হাসপাতালের আইসিইউ-তে (ওঈট) লাইফ সাপোর্টে ছিল। আজ সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হুজাইফার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে টেকনাফ ও হোয়াইক্যং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী এই ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্বজনদের কান্নায় লম্বাবিল গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিবর্ষণে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে। হুজাইফার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শুধু শোক নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ কাজ করছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, স্কুল ছাত্রী হুজাইফার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি।