দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযانের অংশ হিসেবে কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিশোর গ্যাং এবং বখাটেদের উপদ্রব চিরতরে বন্ধ করতে পরিচালিত এই বিশেষ যৌথ অভিযানে আরও ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ও অলিগলিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে কিশোর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের পরিচালিত টানা পাঁচ দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩৫ জনে।
অভিযানের চুম্বক অংশ ও পুলিশের পদক্ষেপ:
লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান: কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সী কিশোরদের গ্যাং সংস্কৃতি, আড্ডাবাজি এবং অপরাধমূলক তৎপরতার আখড়াগুলো চিহ্নিত করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া: নতুন করে আটক ৩৬৩ জনের অতীত রেকর্ড ও অপরাধের ধরন নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর আগে পরিচালিত চার দফায় মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ৯৩০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ৭৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
জিরো টলারেন্স নীতি: জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সাধারণ বা নিরপরাধ কোনো কিশোর যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে কিশোর অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে।